আদালতে ইসকনের কথিত তিন মামলা খারিজের তথ্য মিথ্যা, গ্রেফতার হয়নি সফিউল্লাহ 

https://www.dhakanews24.com/-5187300954

ঢাকানিউজ২৪.কম; প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

বক্তব্য রাখছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ, ছবি ঢাকা  নিউজ২৪ডটকম

সুমন দত্ত: ওয়ারী ইসকন মন্দিরে হামলাকারী হাজি সফিউল্লাহ ও তার সহযােগী ইসরাফ সুফি কে এখনাে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার ওয়ারী থানা পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে হামলাকারীরা অতি উৎসাহ নিয়ে নক্কারজনক এই আক্রমণ চালিয়েছিল। ইসকন কর্তৃপক্ষ হাজি সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে তিন মামলা খারিজ হয়েমামলা গুলি খারিজ হয়েছে পুলিশের এহ বয়ান পুরােপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তােফাজ্জল হােসেন মানিক মিয়া হলে (সাবেক ভিআইপি হলে) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওয়ারী ইসকন মন্দির । কর্তৃপক্ষ। ইসকনের পক্ষে বিবৃতি পড়ে শােনান চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী। 

সংবাদ সম্মেলনে ইসকন কর্তৃপক্ষ বলেন, ৪১ নং ওয়ার্ডের ২২২ লাল মােহন সাহা স্ট্রীটে অবস্থিত শ্ৰী শ্রী রাধাকান্ত জিউ তথা ওয়ারী ইসকন মন্দিরটি আড়াইশ বছর পুরানাে একটি মন্দির। এই মন্দিরের । জায়গা দখল করে আছে হাজি সফিউল্লাহ। তার বিরুদ্ধে ইসকন কোনাে মামলা করেনি। ইসকন এই মন্দিরের সীমানায় কেউ প্রবেশ যাতে করতে না পারে তেমন একটি আদেশ আদালত থেকে নিয়ে আসে। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদিকে পুলিশের সূত্রে প্রচার করা হয়। ইসকন হাজি সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে তিন মামলা করেছে এবং তা খারিজ হয়েছে।  যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পুলিশ এক মুখের কথা শুনে মিডিয়াতে এই বিবৃতি দিয়েছে। যার প্রতিবাদ আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। 

হাজি সফিউল্লাহর সঙ্গে বিরােধ সৃষ্টির কারণ কি? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসকনের সাধু বলেন, হাজি সফিউল্লাহ অনেকদিন আগে এই মন্দিরের এক সেবাইত রুনু বালা দাশের কাছ থেকে বিক্রি দলিল করে কিছু জায়গায় দখল করে নেয়। সেই দলিল তিনি রেজিস্ট্রি করতে পারেননি। কারণ আপনারা সবাই জানেন হিন্দু আইনে দেবত্তর সম্পত্তি কেউ বিক্রি কিংবা লীজ কিংবা হস্তান্তর  করতে পারে না। তাছাড়া হিন্দু আইনে কোনাে নারী সেবাইত কোনাে সম্পত্তির মালিক হয় না। হাজি সফিউল্লাহর কাছে সেই দলিল থাকার কারণে অবৈধভাবে তিনি মন্দিরের সম্পত্তি ভােগ দখল করছেন। তার কাছে বৈধ কোনাে কাগজপত্র নেই। এখন তাকে মন্দিরের সম্পত্তি ছেড়ে দিতে হবে।এমনটা জানার পর সে মন্দিরের আরাে কিছু জায়গা লােকজন নিয়ে দখল করতে আসে।

স্থানীয় পুলিশের নিস্ক্রিয় ভূমিকার কারণে সেদিন পুলিশের সামনেই আক্রান্ত হােন নীহার হালদার ,রাজীব ভদ্র ,সমন্থ চন্দ্র নামে তিনজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাদেরকে কিল ঘুষি মেরে রক্তাত্ব করা হয়। তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানাে হয়। এ ঘটনায় নীহার হালদারের কাছ থেকে  হামলাকারীরা মােবাইল ছিনিয়ে নেয়। 

এদিন সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা ওয়ারীর ইসকন মন্দিরে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন। তারা সরকারের কাছে এ ঘটনার বিচার চান। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না করে তারা ঘরে ফিরবেন না। এই আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেন বলে ঘােষাণ দেন। ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *